খাজা রাশেদ, লালমনিরহাট।। সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সকালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন স্বজনরা। দাবি করেন বিচার। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যায় থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে লিখিতভাবে জানান, এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। স্বজনদের এমন অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

লালমনিরহাট শহরের সাপটানা এলাকার নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আদরী বেগম (৩৫) আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নেয়।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরীকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর অথবা অন্য কোনো ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় বিজলী নামের এক নারী তাঁকে নিউ অতিথি ক্লিনিকে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের দাবি, অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। স্বজনরা রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা করেন। কিন্তু পরদিন সকালে ক্লিনিকে গিয়ে আদরীকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের অভিযোগ, অবস্থার অবনতি হলেও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়নি।
নিহতের বোন মাফুজা আক্তার সকালে অভিযোগ করে বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তাঁর বোনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
সন্ধ্যায় থানায় লিখিত বক্তব্য, অভিযোগ নেই স্বজনদের।
সকালে অভিযোগ ও বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সদর থানার গোলঘরে পুলিশের উপস্থিতিতে নিহতের স্বজনরা লিখিতভাবে জানান, এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযোগ থেকে সরে আসার কারণ কী, তা স্পষ্ট নয়। কোনো পক্ষের প্রভাব কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উঠেছে।

ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হলো আদরির দেহ। স্বজনদের লিখিত বক্তব্যের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ না থাকলেও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হাকিম জানান, বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমের কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply