বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
লালমনিরহাটে বিষাক্ত বর্জ্যে ২ লাখ টাকার মাছ নিধন, বিবাদীর হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় বাদী পরিবার​ লালমনিরহাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন “নতুন ভবন চকচকে হলে কী হবে, ভেতরে পড়ে আছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফায়ার সিলিন্ডার অথচ কতৃপক্ষের নেই কোন নজর পঞ্চগড়ে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, লজ্জা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যায় মৃত্যু-দুই আসামি গ্রেপ্তার মাহিগঞ্জ পরেশ নাথ মন্দিরের সাধারণ সভায় সভাপতি রবি, সম্পাদক বিশ্বজিৎ কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬, ইয়াবা-বিয়ার উদ্ধার জরুরি পারাপারে স্পিডবোটে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী লালমনিরহাটে দুই মন্ত্রীর সামনেই বিএনপির দুই গ্রুপের মারামারি, আহত ৫ লালমনিরহাটে শিবরাম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত
সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মামলা, মারধর, লুটপাট ও জবরদখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষ স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম গংদের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. গোলাম মোস্তফা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গোলাম মোস্তফা। তিনি উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মরুয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে তাঁর বাবা, চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাদুল্লাপুর থানায় সাইবার অপরাধ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করা হয়। তাঁর দাবি, হয়রানি ও সামাজিকভাবে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিস্তারিত তুলে ধরেন গোলাম মোস্তফা। তাঁর দাবি, দামোদরপুর ইউনিয়নের ৫৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৫৮ নম্বর দাগের জমির একটি অংশের মালিকানা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দলিল ও আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে দাবি করে আসছেন।

অন্যদিকে, কামরুল ইসলামের ভাগিনা ও ভাগনি ২০২৪ সালের একটি দলিলের মাধ্যমে ওই জমির ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন গোলাম মোস্তফা।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমিটির পূর্ব মালিক রমিছা বেগমের কাছ থেকে তাঁর চাচা ২০১৭ সালে একই দাগে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে রমিছা বেগম তাঁর মেয়ে মাকছুদা বেগমকে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি হেবা করেন। এ নিয়ে খারিজ, দলিলের বৈধতা এবং জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে।

গোলাম মোস্তফা জানান, বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিস ও আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন গোলাম মোস্তফা।

তাঁর দাবি, এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে তাঁদের পরিবারের জমির মালিকানা রয়েছে বলে মত দেওয়া হলেও কামরুল ইসলাম তা মেনে নেননি। এমনকি ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধের সমাধানে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, গত ২০ আগস্ট রাতে তাঁর চাচা আনিছার রহমানের বাড়িতে হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট সাদুল্লাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর পরদিন তাঁর নিজের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গোলাম মোস্তফা। এ ঘটনায়ও থানায় মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁদের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য ঢাকায় ব্যবসা, চাকরি কিংবা প্রবাসে রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল কিংবা প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে গোলাম মোস্তফা চলমান বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ এবং জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানান।

একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে গোলাম মোস্তফার এসব অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এর আগে সম্প্রতি কামরুল ইসলাম গংরা সংবাদ সম্মেলন করে গোলাম মোস্তফা ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলামের অফিসিয়াল মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com