বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
‎লালমনিরহাটে Bangla QR প্রচলনে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্প্রসারণ ক্যাম্পেইন দুই মাদক কারবারিকে তাবলিগে পাঠিয়ে সুযোগ দিলেন ওসি লালমনিরহাটে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও সামাজিক সচেতনতা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত এককালীন ২০ লাখ, মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে অসুস্থ হয়ে যুবদল নেতার মৃত্যু লালমনিরহাটের মহিষখোচাঁয়  ৫৯১ মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে, যাকাত তহবিল হস্তান্তর পরিকল্পিত সন্ত্রাসে দেশ অস্থিতিশীলের ষড়যন্ত্র, সুন্দরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে ৭ বছরের ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই
গাইবান্ধার সেই বৃদ্ধের ঘরের টিন খুলে নেয়া যুবক গ্রেপ্তার!

গাইবান্ধার সেই বৃদ্ধের ঘরের টিন খুলে নেয়া যুবক গ্রেপ্তার!

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে এক হতদরিদ্র বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে অমানবিক আতঙ্ক নেমে এসেছিল—মাত্র এক হাজার টাকার পাওনা না দেওয়ায় স্থানীয় যুবক সুরুজ মিয়া তাদের একমাত্র মাথাগোঁজার ঘরের ১০–১২টি টিন জোরপূর্বক খুলে নিয়ে যায়। বৃষ্টি-ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হয়েছিল ষাটোর্ধ্র বৃদ্ধ দম্পতিকে। পরে সেই যুবক সুরুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৫ অক্টোবর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই ইয়াকুব আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ সুরুজ মিয়াকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন। অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা টিনগুলো পুনরায় বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরে পড়ুন: এক হাজার টাকার জন্য বৃদ্ধের ঘরের টিন খুলে নিল পাওনাদার

এর আগে গত ২ অক্টোবর ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘পাওনা টাকার জন্য বৃদ্ধের ঘরের টিন খুলে নিলেন পাওনাদার’ শিরোনামের সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। খবরটি নজরে আসার পরই নড়ে চড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রূপনাথপুর গ্রামে মাত্র এক হাজার টাকার পাওনা না পেয়ে স্থানীয় যুবক সুরুজ মিয়া ষাটোর্ধ মতিয়ার রহমানের বসতঘরের ছাউনি থেকে ১০-১২টি টিন খুলে নিয়ে যান। এতে বৃদ্ধ দম্পতি বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছিলেন। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তৎপর হয়। পরে সুরুজকে গ্রেপ্তার করে টিনগুলো উদ্ধার করে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে ফেরত দেয়।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপকে সাদুল্লাপুরের জনসাধারণ স্বাগত জানিয়েছেন। এলাকার মানুষ মনে করেন, ছোটখাটো পাওনার জন্য বৃদ্ধ দম্পতির মাথাগোঁজার জায়গা বিপন্ন করা যে কতোটা নৃশংস ছিল, তা শুধু ঘটনার প্রতিবেদন পড়ে বোঝা যায় না—জীবন অভিজ্ঞতায় প্রত্যক্ষ করতে হয়।

স্থানীয়রা আরও বলেছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিলে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা সম্ভব। পুলিশের সক্রিয়তা ও সঠিক পদক্ষেপ বৃদ্ধ দম্পতির জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন আশা প্রকাশ করে জানান, ভবিষ্যতেও এমন ন্যায়পরায়ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধ দমন হবে এবং ক্ষুদ্র পাওনা বা ব্যক্তিগত বিবাদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com