ডেস্ক রিপোর্ট :: একসময় যে খালটি ছিল ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানার ভাগাড়, সেখানে এখন ফিরেছে পরিচ্ছন্নতার ছোঁয়া। দীর্ঘদিনের অবহেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই খাল পরিষ্কার করতে শুধু নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত হননি উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আলী সুজা, বরং নিজে খালের কাদামাটিতে নেমে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।

তাঁর এই মানবিক ও নেতৃত্বসুলভ উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’ বরিশালের সহযোগিতায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী, স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
দীর্ঘদিনের জমে থাকা কচুরিপানা, প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিন অপসারণের এই কর্মযজ্ঞের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল ইউএনও মো. আলী সুজার সরাসরি অংশগ্রহণ।

বিডি ক্লিনের টি-শার্ট পরে তিনি যখন সরাসরি খালের পানিতে নামেন, তখন একপর্যায়ে তিনি কাদামাটিতে আটকে যান। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে টেনে তুললেও তিনি দমে যাননি বরং আবারও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে পুরোদমে অংশ নেন।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার এমন মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষ ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
বিডি ক্লিনের বিভাগীয় সমন্বয়ক জাহেদ ইরফান জানান, ইউএনও স্যারের আহ্বানে ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সফল করা সম্ভব হয়েছে। নিজে মাঠে নেমে কাজ করায় স্বেচ্ছাসেবীরা কাজের দ্বিগুণ উৎসাহ পেয়েছেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে যে সমাজ পরিবর্তন করা সম্ভব, এটি তারই প্রমাণ। তরুণ সমাজকে মাদক ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চুসহ এলাকাবাসী জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্ববোধ ও সরাসরি অংশগ্রহণ উজিরপুরবাসীর মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করে তুলেছে।
Leave a Reply