নিজস্ব প্রতিনিধি :: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা থেকে সমকামী প্রেমের টানে নিখোঁজ হওয়া ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ছয় দিন পর দিনাজপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন থেকে ওই কিশোরী আকস্মিক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় প্রথমে পরিবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। মামলার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে ভূরুঙ্গামারী থানা-পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে একটি সন্দেহভাজন মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যবহৃত সিমটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত ছিল। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সহায়তায় মনিকা (ছদ্মনাম) নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সন্ধান মেলে।

পরবর্তীতে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকের চিকিৎসকের চেম্বার থেকে মনিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর সকালে তাঁকে ভূরুঙ্গামারী থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর মনিকাকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে। দিনাজপুরের এক নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মনিকাকে আরও দুই কিশোরীর সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এই তথ্যের সূত্র ধরে মনিকার আত্মীয়স্বজনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালায় পুলিশ।
অবশেষে নজর এড়াতে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মনিকার এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের বাসা থেকে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া কিশোরী জানায়, মনিকার প্ররোচনা ও আকর্ষণে সে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিল।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন জানান, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে শুরু থেকেই নিবিড় তদারকি করা হয়েছে। প্রায় ছয় দিনের টানা প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী এবং আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া তরুণীর গোপনীয়তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার স্বার্থে তাদের প্রকৃত নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
Leave a Reply