লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট জেলা সদরের মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে গবাই এলাকায় পারিবারিক পুকুরে বিষাক্ত বর্জ্য ও পোল্ট্রি পচনশীল বর্জ্য ফেলে বিপুল পরিমাণ দেশীয় মাছ মেরে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার আলম মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে নুর ইসলামের পরিবার।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নুর ইসলাম (৫৮)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানায়, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের গবাই মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫১ শতক জমির পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় রুই, কাতলা ও অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছ চাষ করে আসছিলেন নুর ইসলাম ও তার পরিবার। তবে যৌথ পুকুরের অংশীদার হওয়ায় তার ভাই বিবাদী নুর আলম (৪৮) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মাছ চাষে বাধা সৃষ্টি করে আসছিল। একপর্যায়ে আইনগত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই তিনি পুকুরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর হাইব্রিড মাগুর মাছের পোনা ছাড়ে। গত ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বিবাদী নুর আলম হাইব্রিড মাগুরের খাবার হিসেবে মরা ব্রয়লার মুরগি ও পচনশীল বর্জ্য পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। এতে দ্রুত পানি দূষিত হয়ে পচন ধরে এবং ক্ষতিকর গ্যাসের সৃষ্টি হয়। ফলে পুকুরে থাকা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মণ দেশীয় মাছ ভেসে উঠে মারা যায়। পুকুরে মরা মুরগি ফেলার প্রতিবাদ করলে বিবাদী নুর আলম ও তার সহযোগীরা তাকে গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিবাদী দাঙ্গাবাজ প্রকৃতির হওয়ায় বর্তমানে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ঘটনার প্রতিকার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ইতিমধ্যে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এসব বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply