ডেস্ক রিপোর্ট :: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিজ শয়নকক্ষ থেকে মো. ফারুক শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে হত্যা করার পাশাপাশি দুই হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায়।

নিহত ফারুক শেখ ওই এলাকার মো. আব্দুল খালেক শেখের ছেলে। তিনি দৌলতদিয়া ঘাটে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফারুক শেখ বাড়িতে একা থাকতেন। শনিবার তাদের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিন ভাইয়ের একসঙ্গে মায়ের কবর জিয়ারত করার কথা ছিল। দুপুর ১২টার দিকে ছোট ভাই আব্দুল বারেক শেখের সঙ্গে ফারুকের ফোনে কথাও হয়। পরবর্তীতে ফারুক বড় ভাই ফরিদ শেখের বাড়িতে না যাওয়ায়, দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদ শেখ তার জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে ফারুকের বাড়িতে যান। সেখানে ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় ভেতরে মেঝেতে ফারুকের গলাকাটা, দুই হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং থানায় খবর দেয়া হয়।

খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক টিম।
নিহতের বড় ভাই ফরিদ শেখ জানান, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ফারুকের জন্য খাবার নিয়ে তার বাড়িতে যান। বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে মেঝেতে ফারুকের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুল বারেক শেখ বলেন, আমরা তিন ভাই। বড় ভাই আলাদা বাড়িতে থাকেন। আমি স্ত্রীকে নিয়ে পাংশাতে থাকি। ফারুক বাড়িতে একায় থাকতেন।

আব্দুল বারেক শেখ আরও জানান, ফারুক তিনটি বিয়ে করেছিলেন, তবে বর্তমানে কোনো স্ত্রী তার সঙ্গে থাকতেন না। সম্প্রতি তার দ্বিতীয় স্ত্রী এক বন্ধুর সঙ্গে চলে যান। তিনি বাড়িতে নিয়মিত বন্ধুদের নিয়ে দাবা খেলতেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ২টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা পায়। আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক টিম। হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
Leave a Reply