মনজু হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার :: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসরণ না করে টেন্ডার ছাড়াই কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস, বাসভবন, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, রাস্তা ও ঘাটলা মেরামতের জন্য ৫০ লাখ টাকা, অনগ্রসর উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৫০ লাখ টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চতুর্থ কিস্তিতে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার নির্দেশিকা, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) ও অন্যান্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে এসব অর্থ ব্যয় করার কথা।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে ইউএনও নিজেই নির্মাণসামগ্রী ক্রয় এবং শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছেন। তাদের দাবি, টেন্ডার না হওয়ায় তারা কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং সরকারও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, বরাদ্দের অর্থ দিয়ে উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস, বাসভবন, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, ঘাটলা, শিশু পার্ক সংস্কার, অডিটোরিয়ামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র স্থাপন, রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ করার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা শিশু পার্কে লেক নির্মাণ, বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম স্থাপন ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ইউএনওর সরকারি গাড়ির গ্যারেজ, চালকের কক্ষ নির্মাণ এবং অডিটোরিয়ামে এসি স্থাপনের কাজও চলতে দেখা যায়।
নির্মাণশ্রমিক মালাকার প্রদীপ বলেন, “শিশু পার্কের গেটে দুটি ড্রাগন, লেকের বিভিন্ন কারুকাজ এবং পার্কের কিছু সংস্কারকাজের জন্য ইউএনও স্যারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছে। প্রায় ২০ দিন ধরে কাজ করছি।”
আরেক নির্মাণশ্রমিক রশিদুল ইসলাম বলেন, “ইউএনও স্যারের গাড়ির গ্যারেজ, চালকের কক্ষ, পার্কের বিভিন্ন সংস্কার এবং লেক নির্মাণের কাজে প্রায় দেড় মাস ধরে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কাজ করছি। অফিস থেকে এও স্যার মজুরি পরিশোধ করেন। মিস্ত্রির দৈনিক মজুরি ৭০০ টাকা এবং শ্রমিকের ৫০০ টাকা। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জগবন্ধু রায় বলেন, “বিশেষ বরাদ্দের অর্থের বিষয়ে ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের নিজেরা কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। সব কাজ সরকারি বিধি অনুযায়ী হয়েছে। পিআইসি, আরএফকিউ অথবা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাই কাজ করছেন।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Leave a Reply