ডেস্ক রিপোর্ট :: বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ায় স্বামীর পরিবারের নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন নরসিংদীর মাধবদীর গৃহবধূ ইতি। তার দাবি, চিকিৎসকেরা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানালেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মা হতে পারবেন না বলে অপবাদ দিয়েছেন। এমনকি সংসার টিকিয়ে রাখতে ছয় মাস সময় চেয়েও স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মন গলাতে পারেননি তিনি। গত তিন মাস ধরে স্বামীর সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই।

ইতি জানান, প্রায় সাত বছর আগে নরসিংদীর মাধবদীর রনি খানের (বাবা কাজল খান) সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় তারা বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকেরা তাকে জানান, সঠিক চিকিৎসা ও আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) পদ্ধতি গ্রহণ করলে তার সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ চিকিৎসায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।
ইতির ভাষ্য, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তার বাবা চিকিৎসার খরচ জোগানোর জন্য নিজের শখের জমি পর্যন্ত বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর পরিবার এ চিকিৎসায় আগ্রহ দেখায়নি। উল্টো চিকিৎসকেরা নাকি বলেছেন, তিনি কখনো মা হতে পারবেন না- এমন অপবাদ দেওয়া শুরু করে তারা।

ইতি জানান, তিনি সংসার টিকিয়ে রাখতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে বারবার আকুতি জানিয়েছেন। অন্তত ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন, যাতে চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু তার কথায় কেউ কর্ণপাত করেননি। নানা ধরনের নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করে আরও আড়াই মাস স্বামীর বাড়িতে থাকার চেষ্টা করেন তিনি।
একপর্যায়ে কোনো উপায় না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন ইতি। তবে সেখান থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তার। তার দাবি, সালিশের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তাকে দোষারোপ করেন।
ইতির অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তা চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নিতে পারতেন। তার সাথে কথা বলার পর স্বামীর পরিবার অন্য কোনো পরিকল্পনা করে তাকে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বলেও ধারণা তার।

ইতি আরও জানান, একবার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পর স্বামীর বাড়িতে ফিরে দেখেন, তার স্বামীকে বাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শ্বশুরের কাছে কান্নাকাটি করে এবং তার পা ধরে অনুরোধ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি। স্বামীর পা ধরেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীও তার অনুরোধে সাড়া দেননি।
ইতির দাবি, গত তিন মাস ধরে স্বামীর সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। একসাথে থাকাও হচ্ছে না। সাত বছরের সংসার এভাবে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
Leave a Reply