চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি :: মানুষের শেষ বিদায়কে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ করার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আমিনাবাদ ইউনিয়নে এক যুবকের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যতিক্রমী মানবিক প্রতিষ্ঠান‘শেষ ঠিকানা ও দাফন সেবা’। ৪৮ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে একটি মাদ্রাসা। সেখানে ভবিষ্যতে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো দাফন সেবা ও মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো.খোরশেদ আলম সরদারের ছেলে মো. সাইফুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার চৌমুহনী সংলগ্ন পশ্চিম পাশে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জাবেদ আলী ভূইয়া ও আমির হোসেন দালাল বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের সময় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে দুর্ভোগে পড়ে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগও ইতিবাচক। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে এলাকার অসহায় মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার পথও সুগম হবে।
উদ্যোক্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনা করেই পৈতৃক ৪৮ শতাংশ জমিতে তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অনেক পরিবার প্রিয়জনের মৃত্যুর পর দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। এসব পরিবারের পাশে দাড়ানোই আমার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও জানান, পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি মাদ্রাসাও নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের প্রথমে জানুয়ারি থেকে ‘শেষ ঠিকানা ও দাফন সেবা’র আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, অসহায় মানুষের দাফন-কাফনে সহযোগিতা ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির এমন মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উদ্যোগটির সফলতা কামনা করেন।
Leave a Reply