লালমনিরহাট প্রতিনিধি: বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে লালমনিরহাটের শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ২৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৪৭ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। একক কোনো বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে জেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনের এই সাফল্য শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়জুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার সমন্বয়েই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে তালহা তাবাচ্ছুম কবির বলেন, “এই অর্জনের পেছনে আমার শিক্ষক, বাবা-মা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও ভালো ফল করে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে চাই।”
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদ কাব্য’র মা বলেন, “আমার সন্তান প্রথম শ্রেণি থেকেই শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক যত্ন, নিয়মিত পাঠদান ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের কারণেই আজ সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এই সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “এই অর্জন পুরো বিদ্যালয় পরিবারের। আমরা শুরু থেকেই মানসম্মত শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও নিয়মিত পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছি। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
বিদ্যালয়ের সভাপতি আমিনুর ইসলাম বলেন, “এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও অনন্য সাফল্য অর্জন সম্ভব। আমরা এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে চাই।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম ফারুক বলেন, “শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলের এই ফলাফল নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি শুধু প্রতিষ্ঠানটির নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার সমন্বয়েই এমন ফল সম্ভব হয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও ভালো ফল করবে।”
এদিকে, একসঙ্গে ৭৩ জন শিক্ষার্থীর বৃত্তি অর্জনের খবরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরাও এ সাফল্যকে লালমনিরহাট জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
Leave a Reply