বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
পঞ্চগড়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের সুফল বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত কোরবানির হাটে নজর কাড়তে প্রস্তুত ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের গোলাপি মহিষ জামিন পেয়ে খুন করতে এসে নিজেই খুন হলেন যুবলীগ নেতা অনিয়মের তথ্য নিতে গিয়ে বহিরাগতকে ডেকে আনলেন গুদাম কর্মকর্তা আইজিপির হাত থেকে ‘এক্সেমপ্লারী গুড সার্ভিস ব্যাজ’ পেলেন এএসপি জয়ন্ত কুমার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে পটুয়াখালীর ৪ ছাত্রী নিখোঁজ ময়নাতদন্তের পর লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন চিকিৎসক আটোয়ারিতে প্রভাবশালী প্রকৌশলী মকবুল ইশারায় ভিটে মাটি ছাড়া ফজলুর পরিবার পঞ্চগড়ের আলোচিত এসপি মো. মিজানুর রহমান প্রত্যাহার কাউনিয়ায় শ্যালকের স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, দুলাভাই গ্রেফতার
সিন্ডিকেটের বাধায় ৪০ মিনিট আটকা অ্যাম্বুলেন্স, প্রাণ গেল শিশুর

সিন্ডিকেটের বাধায় ৪০ মিনিট আটকা অ্যাম্বুলেন্স, প্রাণ গেল শিশুর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে ঢাকা বা অন্য কোনো জেলার অ্যাম্বুলেন্স শরীয়তপুর থেকে রোগীদের সেবা দিতে পারেন না। এই সিন্ডিকেটের বাধায় ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে প্রায় ৪০ মিনিট আটকে থেকে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শরীয়তপুর পৌর এলাকার নিউ মেট্রো ক্লিনিকের সামনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও নিহত শিশুর পরিবার জানায়, ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকার নূর হোসেন সরদারের স্ত্রী রুমা বেগম প্রসব বেদনায় দুপুরে নিউ মেট্রো ক্লিনিকে ভর্তি হন। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। জন্মের পর থেকেই নবজাতক শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। শিশুটির পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে একটি ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু ক্লিনিকের সামনেই স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক সবুজ দেওয়ান ও আবু তাহের দেওয়ান গাড়ির গতিরোধ করে। মূলত তারা নিজেদের সিন্ডিকেটভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো গাড়িকে ঢাকায় যেতে দিতে রাজি ছিলেন না। এসময় ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. মোশারফ মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক চাবি কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। রোগীর স্বজনদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ায় প্রায় ৪০ মিনিট অ্যাম্বুলেন্সে আটকে থাকার পর নবজাতক মারা যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা বাইরের গাড়িকে রোগী বহনে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক যাত্রী নিজেদের গাড়িতে তুলতে বাধ্য করে। এ ধরনের বর্বরতা বন্ধ না হলে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

অ্যাম্বুলেন্সটির চালক মো. মোশারফ মিয়া বলেন, আমি ঢাকা থেকে আশা ট্রিপ নামিয়ে দিয়ে মেডিকেলের সামনে এসে গাড়িটা সাইড করি। এর মধ্যে রফিক ভাই ফোন দিয়ে ট্রিপ দেয়। আমি তখন রোগীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা শুরু করলে স্থানীয় কিছু অ্যাম্বুলেন্স চালক এসে আমার গাড়ির গতিরোধ করে এবং বলেন তুমি এই ট্রিপ নিতে পারবে না। আমি তাদেরকে বললাম ভাই আপনাদের ঝামেলা থাকলে রোগীকে নামিয়ে নিন কিন্তু রোগীর অবস্থা সিরিয়াস দ্রুত ঢাকা নিতে হবে। রোগীর স্বজনরা বলল না আমরা এই গাড়িতে যাব। তখন আমি গাড়ি স্টার্ট করলে তারা আমার গাড়ি বন্ধ করে চাবি নিয়ে যায় এবং আমার গায়ে হাত দেয়। এরপর ৪০ মিনিট আটকা থাকার পর নবজাতকটি গাড়িতে মারা যায়।

নিহত শিশুর নানী সেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নাতিকে ঢাকায় নিতে পারলেও বাঁচত। ওরা আমার নাতিকে বাঁচতে দেয়নি।

স্বজন রানু আক্তার বলেন, অনেক অনুরোধ করেছিলাম গাড়ি ছেড়ে দিতে, কিন্তু তারা শোনেনি। সিন্ডিকেটের জন্যই আমাদের বাচ্চাটি মারা গেছে।

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com