বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে ৭ বছরের ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই ‎গাজীপুর সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে কাশিমপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে পৌর ছাত্রদলের মিছিল প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে পালালেন এনসিপি নেতা কালিয়াকৈরে বিভিন্ন অপকর্ম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা ব্যবসায়ীকে মারধর ও থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ, ওসির বিভাগীয় শাস্তির দাবি লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ১৫ দিনে একবার দেখা! অতিরিক্ত বন্দীতে স্বজনদের দুর্ভোগ কালিয়াকৈরে চাঞ্চল্যকর আজিবুর রহমান হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার। লালমনিরহাটে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার- ৩৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
সোনাঝুরি লতা: প্রকৃতির উজ্জ্বল কমলা ঝলকানি

সোনাঝুরি লতা: প্রকৃতির উজ্জ্বল কমলা ঝলকানি

রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার হলো সোনাঝুরি লতা (Pyrostegia venusta)। এই লতানো গাছটি তার উজ্জ্বল কমলা থেকে লালচে রঙের ঝলমলে ফুলের জন্য বিখ্যাত, যা শীতকালীন মাসগুলোতে চারপাশে প্রাণের সঞ্চার ঘটায়। সোনাঝুরি লতা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি পরিবেশের সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সোনাঝুরি লতার প্রধান বৈশিষ্ট্য:

সোনাঝুরি লতা একটি দ্রুত বর্ধনশীল, কাঠের মতো শক্ত লতানো গাছ। এর লম্বাটে, গাঢ় সবুজ পাতা এবং ঝুলন্ত ফুলের থোকা গাছে খুব চোখে পড়ে। ফুলের রঙ কমলা থেকে গাঢ় লাল পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়, যা নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ফুটে থাকে। এই সময় সারা দেশ জুড়ে এর উপস্থিতি প্রকৃতির এক আলোকোজ্জ্বল চিত্র সৃষ্টি করে।

জলবায়ু ও পরিবেশে সোনাঝুরি লতার বিস্তার:

বাংলাদেশের গরম এবং আদ্র আবহাওয়া সোনাঝুরি লতার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সরবরাহ করে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলে এই লতা চাষাবাদ ও বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য আদর্শ। এছাড়াও, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, আসাম, মহারাষ্ট্র এবং মধ্য ভারতের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলেও এটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এসব অঞ্চলে সোনাঝুরি লতা রাস্তা, বাগান ও বাড়ির দেওয়াল গুলোকে রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

চাষাবাদ ও যত্ন:

সোনাঝুরি লতা সাধারণত সহজ পরিচর্যা প্রয়োজন হয়। এটি ভালো সূর্যালোক পছন্দ করে এবং মাটির পানি নিষ্কাশন ভালো হওয়া আবশ্যক। এই গাছ শুষ্ক থেকে আর্দ্র মাটিতেই বেঁচে থাকতে পারে। নিয়মিত জলসেচন এবং মাঝে মাঝে জৈব সার প্রয়োগ করলে এর বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। শীতকালীন সময়ে ফুল ফোটার জন্য পর্যাপ্ত তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি।

ব্যবহার ও প্রয়োগ:

সোনাঝুরি লতা মূলত দেওয়াল, বেড়া এবং খুঁটির উপরে চড়িয়ে লাগানো হয়। এর ঝুলন্ত থোকায় ফুল বাগানের সৌন্দর্যকে বেড়িয়ে তোলে। শীতকালে যখন অনেক গাছের ফুল কমে যায়, সোনাঝুরি লতা তার উজ্জ্বল ফুল দিয়ে চারপাশ আলোকিত করে। স্থানীয় কিছু সমাজে এর ফুল থেকে তৈরি ঔষধি উপাদান ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়।

লোকেশন ভিত্তিক জনপ্রিয়তা:

 

ঢাকা: সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সোনাঝুরি লতা লাগানোর প্রচলন রয়েছে।

চট্টগ্রাম: বাসাবাড়ি ও সড়কের ধারে সোনাঝুরি লতা লাগানো হয়ে থাকে, যা শহরের সৌন্দর্য বাড়ায়।

সিলেট: আর্দ্র ও পাহাড়ী অঞ্চলে সোনাঝুরি লতা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সুন্দর ফুল দেয়।

রাজশাহী ও খুলনা: এ অঞ্চলের আংশিক শুষ্ক আবহাওয়াতেও সোনাঝুরি লতা টিকে থাকে ও ফুল ফোটে।

 

সোনাঝুরি লতা বাংলাদেশের বাড়ি-বাড়ির বাগান ও সড়কের সৌন্দর্যের অপরিহার্য অংশ। এর ঝলমলে কমলা-লাল ফুল প্রকৃতির এক অসাধারণ রূপক। সহজ পরিচর্যা, দ্রুত বর্ধনশীলতা এবং অত্যন্ত সুন্দর ফুলের জন্য এটি বাগানপ্রেমীদের জন্য আদর্শ পছন্দ। আপনি যদি আপনার পরিবেশে প্রাণবন্ততা ও রঙের ছোঁয়া চান, তাহলে সোনাঝুরি লতা লাগানো শুরু করুন। এটি কেবল পরিবেশকে সুন্দর করবে না, বরং প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

 

লেখক: রাশেদুল ইসলাম রাশেদ
শিক্ষক ও সাংবাদিক


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com