বিজ্ঞাপন:
সংবাদ শিরোনাম:
সাহারপাড় চৌরাস্তা মোড়ে ট্রাক-কাভার ভ্যানের সংঘর্ষে হোটেল ভেঙে তছনছ পঞ্চগড়ে আমন ধানে পোকার আক্রমণ, বাড়ছে উৎপাদন খরচ; লোকসানের শঙ্কায় কৃষক লালমনিরহাটে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃত্যু মরুভূমির হাত থেকে দেশকে রক্ষায় খাল খনন ও নদীভাঙন এলাকায় মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরি, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার দেওয়ানগঞ্জে ৩৫ বিজিবির অভিযানে সীমান্ত থেকে ভারতীয় ১৮৬ বোতল মদ উদ্ধার ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিরোধ, সাদুল্লাপুরে দুই গ্রামের মুখোমুখি অবস্থান কাশিমপুরের হাতিমারা কলেজে বাউবি এইচ.এস.সি. প্রোগ্রামের বই বিতরণ, ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত। লালমনিরহাটে চলন্ত বাসে সন্তান প্রসব! নবজাতকের নাম ‘আনাস হাসান’ দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার লালমনিরহাটে পুলিশের মতবিনিময় সভা
দেশে ঈদের আগেই ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট

দেশে ঈদের আগেই ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার চাহিদাপত্র দিয়েছে একটি বেসরকারি ব্যাংক। এক সপ্তাহে সে ব্যাংক পেয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। একইভাবে অপর একটি ব্যাংক ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা চেয়ে ১ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। এই চিত্র প্রায় অধিকাংশ ব্যাংকের। ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকটের কারণেই গ্রাহক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, ঈদের আগে নগদ টাকার ব্যাপক চাহিদা। বিশেষ করে কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা আরও বেড়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পর্যাপ্ত টাকা দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গ্রাহককে কাঙ্ক্ষিত টাকা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক ১০ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ৪৩০ কোটি, ১১ মে ৪০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ২১০ কোটি, ১২ মে ৪০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ২২০ কোটি, ১৩ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় মাত্র ১২০ কোটি, ১৪ মে ৭০০ কোটি চেয়ে পায় ২১০ কোটি, ১৭ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ১২০ কোটি এবং ১৮ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পেয়েছে ২১০ কোটি টাকা।

জানা যায়, কুরবানির ঈদ সামনে রেখে ছাপানো টাকার চাহিদা বেড়েছে। ঈদের আগে টাঁকশালের কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেখান থেকে জানানো হয়েছে, কাগজ-কালির সংকটের ফলে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকার নোট দেওয়া সম্ভব। যদিও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পড়ে আছে। এ নোট চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দেওয়া সম্ভব। তবে আপাতত এই ছবিযুক্ত নোট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, ছাপানো টাকার সংকট এবং তারল্য সংকট এক নয়। সব মিলিয়ে এখন ব্যাংক খাতে সঞ্চয় রয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো। ছাপানো টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর ঈদ সামনে রেখে ছাপানো নোটের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এ সময় সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত নোটের বদলে একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন নোট বাজারে আনতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। স্বাভাবিক সময়ে নোটের নকশা বদলের ক্ষেত্রে একযোগে না করে একটি-একটি করে বদল করা হতো। ৫ আগস্টের পর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে একযোগে সব মূল্যমানের নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো নকশার নোট অনেকদিন বাজারে ছাড়া বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য দেখা দেওয়ায় এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, ছাপানো নোটের বড় একটি অংশ ব্যবসায়িক কাজে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষের কাছে থাকে। আর ব্যাংক খাতে ১২ হাজার শাখার ভল্টে থাকে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট এবং সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো-বাজার থেকে প্রতিনিয়ত পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগ বা ময়লাযুক্ত টাকা তুলে তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া। তবে চাহিদামতো টাকা না পাওয়ায় এখন বাজারে প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা নোট পাওয়া যাচ্ছে।

জানা যায়, এবার ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ টাঁকশালের কাছে বিভিন্ন মূল্যমানের অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দেয়। তবে টাঁকশাল থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা সম্ভব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো নকশার ছবিযুক্ত নোট বাজারে ছাড়তে চাইলে চাহিদার চেয়ে বেশি সরবরাহ করা সম্ভব। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত অর্ধপ্রস্তুত অবস্থায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিপরীতে নতুন নকশার নোটের জন্য কাগজ-কালি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সময়স্বল্পতার কারণে এই নোট ছাপা শেষ করে ঈদের আগে বাজারে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী নতুন নকশার নোট আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। যে কারণে বাজারে নোটের সংকট তৈরি হয়। তিনি বলেন, সাধারণভাবে ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট বাজার থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা করতে না পারায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে শিগ্গিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে। ফলে এ সংকট আর থাকবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি।
Design & Development BY : ThemeNeed.com