লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীন বাস্তবায়িত “অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন” প্রকল্পের তথ্যাদি প্রদানে উপপরিচালক (ডিডি) মো. ফজলুল হকের বিরুদ্ধে নানা টালবাহানা অভিযোগ উঠেছে । তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরও অসম্পন্ন তালিকা সরবরাহ এবং তথ্য প্রদানে মন্ত্রী, এমপি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) অনুমতির অজুহাত দেখানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুন মাসে লালমনিরহাটে “অনগ্রসর জনগোষ্ঠী সমূহের জীবনমান উন্নয়ন” শীর্ষক কর্মসূচি সমাপ্ত হয়েছে। এ প্রকল্পে আওতাধীন ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ বাবদ ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা বাবদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন সরকার। অনগ্রসর প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা, বরাদ্দকৃত বাজেট এবং বাস্তবায়িত কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চেয়ে লালমনিরহাট থেকে প্রকাশিত “নতুন বাংলার সংবাদ” পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আশরাফুল হক মৌখিকভাবে সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। কিন্তু উপপরিচালক ফজলুল হক কোনো তথ্য না দিয়ে উল্টো মন্ত্রী, এমপি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) অনুমতির অজুহাত দেখান।

পরবর্তীতে গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাংবাদিক আশরাফুল হক তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্দিষ্ট (ফরম ‘ক’)
উপপরিচালক মো. ফজলুল হকের কাছে (অনগ্রসর প্রকল্পের) তথ্য চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন করেন।
তার আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত কার্যদিবসের মধ্যে গত ২৯ জুলাই স্মারক নং ৪১.০১.৫২০০.০০০.০২.১৬০.১৬.৫২৪ মূলে সমাজসেবা অফিসার ও বিকল্প তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সুকান্ত সরকার স্বাক্ষরিত একটি তালিকা সরবরাহ করা হয়। তবে সেই তালিকায় ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর নাম, পিতা/স্বামী ও মাতার নাম এবং ঠিকানা হিসেবে কেবল পৌরসভা, উপজেলা ও জেলার উল্লেখ ছিল; যা পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছিল না।
অসম্পূর্ণ তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সাংবাদিক আপত্তি জানালে গত ২ আগস্ট স্মারক নং ৪১.০১.৫২০০.০০০.০২.১৬০.১৬.৫৩৫ মূলে পুনরায় একটি তালিকা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় দেওয়া তালিকায়ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর গোপন রেখে কোথাও গ্রাম, কোথাও ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলার তথ্য দেওয়া হয়। যা অনুমোদিত তালিকা বা ঠিকানা নয়, উপপরিচালকের মনমত দায়সারা তৈরিকৃত তথ্য দেন।
অথচ ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ খরচ বাবদ ৪ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণোত্তর সহায়তা বাবদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে সুবিধাভোগীদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিতে অনীহা প্রকাশ করায় প্রকল্পটিতে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশরাফুল হক বলেন, “তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পের তথ্য পাওয়ার অধিকার যেকোনো নাগরিক ও গণমাধ্যমের রয়েছে। কিন্তু সমাজসেবা কার্যালয়ে অনগ্রসরের তথ্য চাইতে গেলে উপপরিচালক ফজলুল হক কোনো সহযোগিতা করেন না। উল্টো তিনি মন্ত্রী, এমপি ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বা মোবাইল নম্বর দেওয়া যাবে না বলে জানান। তাঁর এমন আচরণ চরম সন্দেহজনক।
সমাজসেবা অফিসার ও বিকল্প তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা সুকান্ত সরকার বলেন, আমাকে উপপরিচালক স্যার যেভাবে তথ্য দিতে বলছেন, আমি ঠিক সেভাবে তথ্য দিয়েছি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফজলুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, পূর্বের কর্মস্থলেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ।গাইবান্ধা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সাবেক উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের অনুদান ও উপকরণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা থেকে বদলি হয়ে তিনি বর্তমানে লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবায় কর্মরত আছেন। এর আগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সেই তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো ধীরগতিতে চলছে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply