ঢাকাসোমবার , ২৪ মার্চ ২০২৫
  1. অপরাধ ও আদালত
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইসলাম ডেস্ক
  5. কৃষি ও অর্থনীতি
  6. খেলাধুলা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য-প্রযুক্তি
  9. দেশজুড়ে
  10. নির্বাচন
  11. বানিজ্য
  12. বিনোদন
  13. ভিডিও গ্যালারী
  14. মুক্ত মতামত ও বিবিধ কথা
  15. রাজনীতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাইবান্ধায় সরকারি চাল লুটের সংবাদ প্রচার করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিবেদক
প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মার্চ ২৪, ২০২৫ ১১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি ত্রাণের চাল লুটের সংবাদ প্রকাশ করায় গাইবান্ধার এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।

মামলাটি করেছেন ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল-আমিন আহম্মেদ।

মামলায় স্থানীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার গাইবান্ধা প্রতিনিধি মজিবর রহমানসহ তিনজন বিএনপি নেতা ও অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি আমলী আদালতের জিআরও এএসআই সিরাজুল ইসলাম।

এর আগে রবিবার (২৩ মার্চ) ফুলছড়ি আমলী আদালতে চেয়ারম্যান আল-আমিন আহম্মেদ এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় উদাখালি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৭৮টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ৪০.৭৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার উপকারভোগীদের মাঝে টোকেন বিতরণ করে ইউনিয়ন পরিষদ। পরদিন বুধবার সকাল থেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে টোকেনধারীদের মাঝে চাল বিতরণ শুরু হয়।
কিন্তু বিতরণের শেষ পর্যায়ে, দুপুর আড়াইটার দিকে, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি চাল বিতরণস্থল উদাখালি ইউনিয়ন পরিষদের গুদামের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এরপর কিছু মানুষ গুদামে প্রবেশ করে বস্তা লুট করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যান আল-আমিন আহমেদ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার অনুগতদের মাধ্যমে চাল বিতরণে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন এবং পরিকল্পিতভাবে গুদামের দরজা খুলে দিয়ে সাধারণ জনগণকে স্লিপ ছাড়াই চাল নিতে উৎসাহিত করেন। পরবর্তীতে সেই দৃশ্যকে অপব্যবহার করে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সাংবাদিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে রয়েছে, যেখানে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের অনুসারীরা জনতাকে গুদামের মধ্যে প্রবেশ করতে সহায়তা করছেন।

মামলার অন্যতম আসামি সাংবাদিক মজিবর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করি। উপকারভোগীদের অভিযোগ ছিল, চেয়ারম্যান অনিয়মের মাধ্যমে চাল বিতরণ করেছেন এবং লুটপাটের নাটক সাজিয়ে চাল আত্মসাৎ করেছেন। এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই চেয়ারম্যান আল-আমিন ও তার অনুসারীরা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। অবশেষে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মিথ্যা মামলা করে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সাংবাদিক মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তারা আরও জানান, যদি দ্রুত মামলা প্রত্যাহার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।